Bread tree বা রুটি ফল গাছ একটি বহুবর্ষজীবি ও চিরহরিৎ বৃক্ষ। এর যে ফল হয় তাঁকে রুটি ফল বলে। এর বৈজ্ঞানিক নাম Artocarpus communis . দেখতে কাঁঠালের মতো হলেও এটি কাঁঠাল নয়। অবশ্য এটি কাটলে কাঁঠালের মতো আঠা বের হয় । তবে এটির পাতা আমাদের পরিচিত পেঁপে পাতার মতো। এর স্বাদ অনেকটা মিষ্টি আলুর মতো। এর ভিতর কোনো বীজ নেই ।এটিকে কাঁচা এবং পাকা দুই অবস্থাতেই খাওয়া যায় । চাইলে গুঁড়ো করে রুটি বানিয়েও খেতে পারেন অথবা পাউরুটির মতো কেটে ঝলসে খেতে পারেন। বিভিন্ন পদ্ধতিতে খাওয়া যায় বলে খাদ্য রসিক মানুষেরা এটি খুবই পছন্দ করেন। পাখি ধরার ফাঁদ হিসেবে এর আঠার ব্যাবহার ব্যাপক। একটি রুটি ফল গাছ ৫০-৬০ ফুট লম্বা হতে পারে। এর আদি নিবাস প্রশান্ত মহাসাগরের পলেনেশিয়া, মাক্রোনেশিয়া সহ বিভিন্ন অঞ্চলে। তবে এটিকে প্রথম পাওয়া যায় ‘ তাহিতি ‘ নামক একটি আইল্যান্ডে ।

রুটি ফল কি এবং এর গুরুত্ব:
রুটি ফল বা ব্রেড ফ্রুট আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। বিশ্বের সকল মানুষের কাছে এটি প্রধান শর্করা জাতীয় ফল । কিন্তু দেশের রাজধানী ঢাকায় এটি পরে থাকে অনাদরে। বিশ্বে গম ,ধান ও আটার বিকল্পে ব্যাবহার হয়ে আসছে এটি । এতে রয়েছে বিভিন্ন সুষম খাদ্য উপাদান। রয়েছে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ১১ প্রকারের বিভিন্ন ভিটামিন ও ৮ প্রকারের মিনারেল । এর প্রায় ৭০% পানি।
প্রতি ১০০ গ্রাম রুটি ফলে যা থাকে:
Energy: ৪৩১ কিলোজুল (১০৩ কিলোক্যালরি) Carbohydrates: ২৭.১২ গ্রাম Sugars: ১১ গ্রাম Dietary fiber: ৪.৯ গ্রাম Fat: ০.২৩ গ্রাম Protein : ১.০৭ গ্রাম
বাংলাদেশে রুটি ফল:
প্রথম আলোর সূত্র মতে ২০০২ সালে অবসর প্রাপ্ত এয়ার কমডর জিয়ারত আলী প্রথম শ্রীলঙ্কা থেকে রুটি ফলের চারা নিয়ে আসেন। এটি প্রথমে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে তার সরকারি বাসভবনে রোপন করা হয়। তবে ২০০৩ সালে বাসস্থান ছেড়ে দেওয়ার সময় তিনি এই চারাটি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগকে উপহার হিসেবে দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। এর জন্য তিনি সেখানের সহযোগী অধ্যাপক ড: মোঃ জসিম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করেন। ড: জসিম উদ্দিন এই দুর্লভ গাছটি গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে দুটি শর্ত দেন জিয়ারত আলী। প্রথমটি , ফল হলে অবশ্যই তাকে তা খাওয়াতে হবে এবং দ্বিতীয় শর্তটি হলো এর একটি চারা তাকে দিতে হবে। পরে চারাটিকে ক্যান্টনমেন্ট থেকে তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে রোপন করা হয়। এর ২ বছর পর থেকে অর্থাৎ ২০০৫ সাল থেকে ১৭ বছর ধরে ধরে এটি ফল দিয়ে যাচ্ছে। এর ব্যাপক ফলনই বলে দেয় এর বাণিজ্যিক চাষের সম্ভাবনা। যেহেতু এর কোনো বীজ নেই তাই এর চারা হয় মূল থেকে এবং গুটি কলম পদ্ধতিতেও এর চারা তৈরি করা হয়। বোটানিক্যাল গার্ডেন রোপন করা ঐ গাছটি থেকে এ পর্যন্ত ২টি চারা উৎপাদন করা হয়েছে। যা থেকে বোঝা যায় রুটি ফল বা ব্রেড ফ্রুট গাছ এদেশের আবহাওয়ায় উপযোগী । সাধারণত আগস্টের শুরু থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করা হয়। একটি বড় আকারের গাছের থেকে ৫০০ ও বেশি ফল ধরে। প্রতিটির ওজন ৫০০ গ্রাম থেকে ৬ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। রুটি ফলের ঔষধি গুণ: রুটি ফলের রয়েছে বেশকিছু ঔষধি গুণ। এর পাতা দিয়ে তৈরি পেস্ট উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ও হাঁপানি রোগীদের জন্য উপকারী। জিভে ঘা হলে এর পাতার প্রলেপ দেওয়া হয় এবং এর কশ চর্ম রোগের জন্য উপকারী। রুটিফল নিয়ে একটি গল্প চালু আছে; হাওয়াই অঞ্চলে খুব দুর্ভিক্ষ হলে যুদ্ধদেবতা কুর্কাইলির নিজেকে মাটিতে পুতে ফেলেন। যেখানে তিনি নিজেকে পুতে ছিলেন সেখান থেকেই ব্রেড ফ্রুট বা রুটিফলের জন্ম। আর সে ফল খেয়েই সে সময় হাওয়াইবাসির জীবন রক্ষা পায়। অনুমান করা হয় ১৪০০ শতকে জলদস্যুদের মাধ্যমে হাওয়াই থেকে পলিনেশিয়ায় রুটিফল ছড়িয়ে পরে!
প্যাসিফিক অঞ্চলের গাছ। শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, তাহিতি, পলিনেশিয়া, হাওয়াই ও ক্যারিবিয় দ্বীপপুঞ্জে রুটিফল ভাল জন্মে। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদউদ্যান ছাড়াও কুমিল্লার বার্ডে একটি রুটিফল গাছ রয়েছে!

রুটি ফলের চাষ:
বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় ৯০ টিরও বেশি দেশে চাষ হচ্ছে এই ফলটি। ভারত, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, আফ্রিকা ও সাউথ অ্যামারিকা সহ বিভিন্ন দেশে এই গাছ পাওয়া যায়। তাহিতি ও ক্যারিবিয় দ্বীপপুঞ্জে এই ফল প্রচুর ব্যাবহার হতো। এই গাছটি মূলত উষ্ণাঞ্চলীয় এবং আদ্র অঞ্চলে হয়ে থাকে। তুষার অঞ্চলে এই গাছ হয় না। এটি হালকা ছায়াযুক্ত স্থানে সুন্দর ভাবে বেড়ে ওঠে। এই গাছের জন্য উত্তম জলনিকাশী ব্যবস্থাযুক্ত ও বায়ুচলাচলের উপযোগী মাটি প্রস্তুত করতে হবে। গরমের মরসুমে ছোট চারা গাছে প্রতি দিন জল দিতে হবে এবং বর্ষার মরসুম গাছটির উপরেসেডের ব্যাবস্থা করতে হবে, দু মাসে একবার জৈব সার গাছের গোড়ায় হিতে হবে।
লেখক: মোঃ অমিয় হাসান লস্কর। Author: MD Amiyo Hasan Laskar. Site: Crypto Question Festival. Pls like, comment and share our blog post. Your like give me inspiration.
Leave a comment