চুরি হচ্ছে আপনার তথ্য! ফেসবুক কতটা নিরাপদ? The Dark side of social media.

করোনা প্যান্ডামিকের সময় যখন মানুষের ২ বেলা দুইমুঠো ভাত খাওয়া কষ্টের হয়ে দাঁড়ায়ে ছিলো ঠিক তখনো একজন মানুষের অর্থের পরিমাণ ২ হাজার ২শ কোটি ডলার হয়েছে। পৃথিবীতে শুধু মাত্র ৩ জন‌ মানুষের সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি ডলার এর মধ্যে তিনিও একজন। আমাদের পরিচিত অনলাইন প্লাটফর্ম ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মার্ক জাকারবার্গ। আর আপনি হয়তো বর্তমানে বাসে ঝুলে অফিসে যাচ্ছেন অথবা কলেজের ডিগ্রী নিতে ব্যস্ত । আপনি হয়তো ভাবছেন অফিস আপনাকে ভালো বেতন দিচ্ছে না, আপনার ঘর সংসারের হাল ভালো নয়, পাশের মুদি দোকানে অনেক বাকি পরে আছে , ছেলের স্কুলের বেতন আটকে আছে , কি হবে আপনার ভবিষ্যতের? কিন্তু সব কিছুর মাঝেও আপনার আঙ্গুল গুলো ব্যস্ত আছে ফেসবুকে , ফেসবুক থেকে মেসেঞ্জারে , মেসেঞ্জার থেকে স্ন্যাপ চ্যাটে , তারপর অন্য কোথাও। মোটকথা আপনি কিছু না কিছু নিয়ে ব্যস্ত আছেন।

আপনার তথ্য চুরি করে নিয়ে যে ইন্ডাস্ট্রিটা গড়ে উঠেছে তার মূল্য প্রায় ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। হ্যা টাকার অঙ্কটা ঠিকই শুনেছেন আপনি। আর এখানেই আসে The darkest site of World . যারা এই তথ্য নিয়ে ব্যাবসা করে এদেরকে বলা হয় Deta broker. তবে এরা আপনার কোন ধরনের ডেটা নিয়ে ব্যাবসা করে? এদের মূলধন‌ কি? তা জানতে চলুন কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া যাক। আপনি হয়তো ফেসবুকে কারও কোনো ভিডিও দেখেছেন বেশখানিকক্ষন ধরে দেখেছেন সেটি কিন্তু কয়েক দিন পর সেই চ্যানেলের আরেকটি ভিডিও আপনি ইউটিউবে দেখতে পাবেন। কি ভাবছেন? এটা কাকতালীয়? আবার হয়ত আপনি ইউটিউবে একটি চ্যানেলের ভিডিও খুব দেখেন এবার আপনি যদি গুগলের যে নিউজ ফিড রয়েছে তাতে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করেন তাহলে ৭০ % সম্ভাবনা রয়েছে আপনি সেখানেও সেই চ্যানেলের ভিডিও দেখতে পারেন। এটিও কাকতালীয়? আবার আপনি হয়তো মেসেঞ্জারে কোনো বন্ধুকে একটি ঘড়ি কেনার কথা বললেন। সেই বন্ধুটি হয়ত এখনো মেসেজটি সিন ও করেনি কিন্তু তার আগেই আপনার পুরো নিউজ ফিডে একের পর এক ঘড়ির বিজ্ঞাপন আসতে শুরু করেছে। কি ভাবছেন এসবই কাকতালীয়? মোটেই না। ইতিমধ্যেই ফেসবুকের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স জেনে ফেলেছে আপনি একটি ঘড়ি কেনার কথা ভাবছেন। আর এবার সে কিনিয়েই ছাড়বে । আপনি হয়তো জানতেও পারলেন না আপনাকে ফ্রী সার্ভিস দেওয়া ফেসবুক ,মেসেঞ্জার বা অন্য কোনো অনলাইন প্লাটফর্ম আপনাকে তাদের পন্য হিসেবে ব্যবহার করে ফেললো। You are not the customer, you are the product. তাদের কাছে আপনি শুধু মাত্র একটি পন্য মাত্র। আপনার নাম, বয়স , উচ্চতা, আপনার মেইল এড্রেস , ফোন নাম্বার, ওজন,ফ্যামিলি মেম্বার, তারা কারা,‌ তাদের বয়স কত?, আপনার রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস, আপনি কোথায় আছেন, আপনি কোথায় থাকেন, আপনি কি পছন্দ করেন, আপনি কি অপছন্দ করেন,আপনার রাজনৈতিক মনোভাব, ধর্মীয় অনুভূতি ইত্যাদি ইত্যাদি সবকিছুকেই তারা তাদের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে।

আর এসবের জন্য তাদের আপনার ইমেইল একাউন্ট , ফেসবুক একাউন্ট বা মোবাইলে কোনো গোপন স্পাইওয়্যার দিতে হয় না। আপনি নিজেই সেটি তুলে দিচ্ছেন তাদের হাতে। আবার আপনি বলতে পারেন এসব তো আর পাঁচজন‌ মানুষও আপনার সম্পর্কে জানে । কিন্তু তারা জানা আর ডেটা ব্রোকাররা জানা এক নয় । আপনি হয়তো ভাবছেন আপনি কিভাবে তাদের এসব তথ্য দিয়েছেন? আপনি হয়তো ফেসবুকে কারও পোস্টে লাইক দিয়েছেন সেটা আপনার ভালো লেগেছে। আবার কোনোটি খারাপ লেগেছে। আপনি আপনার প্রোফাইলে আপনার নাম দিয়েছেন, একাউন্ট খুলতে ফোন নাম্বার অথবা ই-মেইল এ্যাড্রেস দিয়েছেন । প্রোফাইলে আপনার ছবি দিয়েছেন। ব্যাক্তিগত কিছু তথ্য দিয়েছেন। আপনার এড্রেস দিয়েছেন। ফ্যামিলি মেম্বার এ্যাড করেছেন। সবমিলিয়ে আপনি আপনার অনলাইন একটা ভার্সন তৈরি করেছেন। আপনি হয়তো কোনো অ্যাপ অথবা ওয়েবসাইটে গিয়ে তাদের টার্মস এন্ড কন্ডিশনে গিয়ে আই এগ্রি বাটনে ক্লিক করছেন পুরোটা না পড়েই আবার কুকিজ এক্সেপ্ট করছেন তার কাজ না জেনেই। তারপর সেসব তথ্য বিক্রি করা হচ্ছে আলাদা আলাদা ক্রেতার কাছে শত শতবার। আপনার চোখে আপাত দৃষ্টিতে কম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েই বিলয়ন‌ ডলার কমাচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠান যার নাম হয়তো কখনো আপনি শোনেন ও নি। Chamath palihapitia তিনি আগে ফেসবুকের ব্যবহার সংখ্যা বৃদ্ধির কাজে নিয়োজিত ছিলেন কিন্তু এখন তিনি এটা নিয়ে অপরাধ বোধ করেন । তিনিই একমাত্র নন জিনি আমাদের সতর্ক করছেন । ২০১৯ সালে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আমরা দৈনিক ১৪৫ মিনিট শুধু ফেসবুক স্ক্রল করে কাটিয়ে দিচ্ছেন । যার অর্থ বছরে প্রায় ৩৬.৫ দিন । বাহ কি সুন্দর সময়ের অপচয়। অবশ্য এখন একটি অ্যাপসের সফলতা মাপা হয় এটা কতটুকু সময় একটি মানুষকে এটিতে আকৃষ্ট করে রাখতে পারে। বছর খানেক আগে The Economics তাদের একটি আর্টিকেল লিখে ছিলো যার হেড লাইন ছিলো The sun never sets. আপনি যখন আমার এই ব্লগ পোস্ট দেখায় ব্যস্ত তখন সমগ্র বিশ্বের ২৯% মানুষ ফেসবুক স্ক্রলে করছে আর প্রতি ৫ জনের ২ জন মাঝ রাতে নোটিফিকেশন চেক করছে। আমাদের বাংলাদেশেই প্রতি ১২ সেকেন্ডে ১ জন করে নতুন ব্যাবহার কারি তৈরি হয় যা কিনা দেশের জন্ম হারের চেয়েও বেশি। যেমন ধরুন ২০২০ সাল মতে পৃথিবীর জনসংখ্যা ৬ বিলিয়ন অথচ শুধু ইউটিউবই ডাউনলোড করা হয়েছে ১০ বিলিয়নের উপর। যা কিনা প্রমান করে আপনি বা আমি সোশ্যাল মিডিয়ার মিথ্যে জগতে কতটুকু আকৃষ্ট। এবার আশা যাক জনপ্রিয় আরেকটি সোশ্যাল প্লাটফর্ম টিক টকে। কিছুদিন আগে একটি নিউজ ভাইরাল হয় যেখানে বলা হয় একজন পুলিশ ছাদ থেকে পড়ে মারা যায়। পরে জানা যায় তিনি আসলে টিকটক ট্রেন্ড ভিডিও বানাতে গিয়ে দু বিল্ডিংয়ের মাঝ দিয়ে লাফ দেওয়ার সময় পা ফসকে পরে যান এবং সাথে সাথেই তার মৃত্যু। এরপর চীনের এক ভাইরাল টিকটকার একই ট্রেন্ড ফোলো করতে গিয়ে ক্রেনের উপর থেকে পরে যায় এবং তার মৃত্যু হয়। এতেই থামানো উচিত ছিলো আমাদের কিন্তু এটা শুরু ছিলো।

এরপর টিকটকে আসে আর চ্যালেঞ্জ যার নাম ছিল ব্ল্যাকআউট। অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত শ্বাস বন্ধ করে রাখতে হয় এই চ্যালেঞ্জে। যুক্তরাষ্ট্রের পোকলাহোমার প্যাথানিকে একটি এপার্টমেন্ট থেকে ১২ বছর বয়সী এক বালকের মৃতদেহ উদ্ধার করে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোটা যুক্তরাষ্ট্রে এনিয়ে এই ট্রেনডে মৃত্যু হয় ৩ জনের । আর দায়ী? টিকটক। টিকটক এখন পর্যন্ত ১৫০ দেশে ৭৫ টির ও বেশি ভাষায় ১বিলিয়নের ও বেশি সংখ্যক বার ডাউনলোড হয়েছে। তারা আমেরিকা থেকে নিষিদ্ধ হয়েছে ভারত থেকেও লম্বা নিষেধাজ্ঞা পেয়েছে তারপরও গত বছরের শুরুতে ফেসবুক ও স্ন্যাপ চ্যাট কে ছাড়িয়ে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড কৃত অ্যাপস হয়েছে। এইসব নিষেধাজ্ঞার কোন কিছুই তাদেরকে তাদের ইউজার কমতে দিতে পারেনি। হ্যামিলিওনের বাঁশি ওয়ালা যেমন এ প্রজন্মের কাছে টিকটক ও তেমন। সবাই নেশাগ্রস্তের মতো ছুটছে এর পিছনে পিছনে। বর্তমান টিকটকাররা অনেকেই নিজেদের জাহির করার মিথ্যা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। এক ছাদ থেকে অন্য ছাদে লাফানোর ভিডিও তৈরি, প্রশিক্ষণ ছাড়াই বিভিন্ন বিপদজনক কর্মকাণ্ড ও মরণ ফাঁদের কোনো কারণ ছাড়াই উটকো এক্সপেরিমেন্টের নামে নিজের জীবন বিপন্ন করা। এসবই টিকটকারদের কাছে ট্রেন্ড স্বরূপ। সেবার এক ভারতীয় ছেলে বন্ধুদের কাছে বাজি ধরে চলন্ত এক ট্রেন থেকে অন্য ট্রেনে যাওয়ার ভিডিও তৈরি করে। ফলাফল? মৃত্যু। আসলে এই টিকটকাররা তাদের শতকরা ৯৯% এরই উদ্দেশ্য থাকে ভাইরাল হবার । যদিও আজ-কাল কে না চায় ভাইরাল হতে? কোথাও গেলে মানুষ তাকে ঘিরে ধরুক, সেলফি নিক , অটোগ্রাফ চাক, নিজের একটা ব্রেন্ড ভ্যালু , অপরকে এই বিষয়ে টেক্কা দিয়ে নিজেকে সবচেয়ে বেশি পরিচিত করা এই সবই টিকটকারদের নেশা। আর এই নেশা এতটাই প্রবল যে এর জন্যে তারা যা ইচ্ছা করতে পারে। কিছু কিছু কিশোরীরা ভাইরাল হতে নিজেকে উন্মুক্ত ভাবে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে উপস্থাপন করে। এদের ভেতর যে কতজনের অন্তরঙ্গ ভিডিও ফুটেজ ফাঁস হয়েছে আর কত জনে এই কারণে আত্মহত্যা করেছে তার হিসেব কি আছে কারো কাছে? টিকটক নেশা গ্রাস করছে ছোটদেরও। তারাও মেতেছে টিকটকে । সামান্য এই বয়সেই স্কুলে নিয়ে যাচ্ছে মোবাইল ফোন সকলকে নিয়ে করছে টিকটক ভিডিও। এইতো গত ৬ মাস আগে নোয়াখালীর চাটখিলে ৫ম শ্রেণী পড়ুয়া সানজিদা ফাঁস লাগার ভিডিও করতে আলমারির উপর উঠে এবং হঠাৎই পা ফসকে যায় তার । তারপর সানজিদার মা-বাবার বুক ফাটা কান্না। একবার চিন্তা করুন, যে সময়ে এই মেয়েটির প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করবে ঠিক সেই সময় তাকে টিকটক নামক বিষাক্ত সাপের করাল গ্রাসে পরিণত হয়। এছাড়াও এই বয়সে তারা প্রেম করছে এবং প্রকাশ্যে তা প্রচার করছে এবং এই প্রেমিক -প্রেমিকা মিলে বানাচ্ছে টিকটক। অনলাইন নেটিজেনদের কাছে এরা নিব্বা-নিব্বি নামে পরিচিত।অবশ্য এতে অভিভাবকদের গাফিলতিও কম নয় । আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের মোবাইল ফোন উপহার হিসেবে দিয়েছে । আমরা চাইলেই এদিয়ে বিভিন্ন কাজ করতে পারি , দূরের কারও সাথে কথা বলতে পারি ও পড়ালেখার বিভিন্ন কাজে লাগাতে পারি কিন্তু আমরা তা করছি না। আমরা এত এত সুবিধাকে অগ্রাহ্য করে নিজেদের ব্যস্ত রাখছি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট সহ বিভিন্ন মোবাইল গেমসে। আধুনিক মোবাইলের জনক মার্টিন কুপার যদি তার আবিষ্কারের জন্য শত শত মানুষের ভবিষ্যৎ নষ্ট হবে জানতেন তাহলে তিনি হয়তো এই আবিষ্কার অনাবিষ্কৃতই রেখে দিতেন।আপনি যখন আমার এই ব্লগ পোস্ট পড়ছেন তখন হয়তো আপনি এটি ফেসবুক থেকেই পেয়েছেন । একবার চিন্তা করে দেখুনতো আপনি নিজে যতগুলো বছর কাটিয়ে এসেছেন সেই সব বছরগুলোতে আপনার অ্যাচিভম্যিন্ট কি? কি পয়েছেন আপনি বছরের ৮৭৬০ ঘন্টা কাটিয়ে? আপনার স্কিলটা আসলে কি? আছে কি উল্লেখ যোগ্য কিছু?

২০০৮ সালে ব্রাইয়ান এবং জেন মিলে একটি নিরাপদ মেসেজিং অ্যাপ তৈরি করেন যার নাম whatsap/ হোয়াটসঅ্যাপ। যেখানে নাসার বাৎসরিক বাজেটেও ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিলো না সেখানে ২০১৪ সালে ফেসবুক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ কিনে নেয়। ভাবতে পারেন? কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন? হোয়াটসঅ্যাপের আয়ের উৎস কি? কিভাবে আয় হয় হোয়াটসঅ্যাপে? এতে কোনো বিজ্ঞাপন নেই, এনড টু এনড এনস্ক্রিপটের জন্য তথ্য চুরিও সম্ভব নয়। তাহলে আয় টা কোথায়? আগেই বলেছি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর কথা ফেসবুকের সহযোগী এই অ্যাপস ফেসবুক অ্যালগরিদম ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর কাছে পাচার করছে আপনার তথ্য। এরপর এরাই টার্গেট করে আপনাকে। ব্যাপারটা খুবই সহজ ধরুন আপনি আপনার মোবাইলে কারো নাম্বার অ্যাড করেছেন। এবার আর আপনাকে কষ্ট করে তার হোয়াটসঅ্যাপ আইডি খুঁজতে হবে না হোয়াটসঅ্যাপ নিজেই খুঁজে দেবে এটি। তারপর কিছুক্ষণ বা কিছুদিন পর আপনি তার ফেসবুক আইডি পেয়ে যাবেন। পেয়ে যাবেন ইনস্টাগ্রাম আইডিও। এবার বুঝেছেন তো ব্যাপারটা? এই একই কাজ স্ন্যাপ চ্যাটও করে থাকে । কারও নাম্বার সেভ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার স্ন্যাপ চ্যাট আইডি নোটিফিকেশন ভেসে আসবে আপনার কাছে। এগুলো সবই ডেটা পাইরেসির খেল। আজকের দিনে যার কাছে যত ডেটা তার রাজত্ব। আর সবচেয়ে বড় সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক এর লিডার। তাদের কাছেই রয়েছে সর্বাধিক তথ্য। তাই আপনি নিজের সম্পর্কে যা জানেন ফেসবুক ও গুগল তার থেকে বেশি জানে। এবার হয়তো বলবেন এই গুগল কিভাবে আপনার তথ্য জানে? আপনি হয়তো তেমন কেউ নন জিনি ইমেইল দিয়ে কথা বলেন, শুধু টুকিটাকি কিছু প্রয়োজনীয় কাজের জন্য এই ইমেইল এড্রেস খুলেছেন আর তাই ব্যবহার হচ্ছে গুগলে। গুগলেও আপনার তেমন কোন কাজ নেই শুধু কয়েকটা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা ছাড়া । কিন্তু এখানেই তো আসল জিনিস। আপনি কেমন মানুষ তা ভেসে উঠে আপনার প্রশ্নের মাধ্যমে। গুগল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সও কিন্তু এতো বোকা নয় ,সেও বুঝতে পারে আপনার প্রশ্নের ধরন থেকে আপনি কেমন মানুষ। তারপর সেটা সম্পূর্ণ নিউজটি জুড়ে আপনি যেরকম প্রশ্ন করেছেন যে ক্যাটাগরির প্রশ্ন করেছেন যে ধরনের প্রশ্নগুলো করেছেন সেগুলোকে শো করতে থাকে। তাই বলাই যায় আপনি যদি কাউকে পছন্দ করে থাকেন অথবা কে কেমন মানুষ সেটা জানতে চান তাহলে তার গুগল নিউজফিডে যান। গুগলের কাছে আরেকটি তথ্য থাকে আর সেটি হলো আপনার লোকেশন।অবশ্যই এ ধরনের কাজ ফেসবুক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স করে থাকে। যেমন ধরুন আপনি কোন ফ্রেন্ডের সাথে এড হয়েছেন ফেসবুকে এবার আপনার ফ্রেন্ড যে ধরনের ভিডিও দেখছে অথবা আপনি যে ধরনের ভিডিও দেখছেন যেগুলোকে লাইক করছেন কমেন্ট করছেন ঠিক সেই ভিডিওগুলি আপনার অন্য বন্ধুর নিউজফিডে অটোমেটিক্যালি চলে যাচ্ছে আর এখানে আপনি কি কি কমেন্ট করেছেন কি রিয়েকট করেছেন তাও শো করছে। আবার মাঝে মাঝে আপনি নিজেই কোথায় আছেন এই তথ্যটি ফেসবুককে দেন। যেমন আপনি যখন আপনার শহর অপশনে চট্টগ্রাম দিয়েছেন তখন আপনি বেশিরভাগ চট্টগ্রামের খবরই দেখবেন ঢাকার নয়। আবার আপনি কোথাও ঘুরতে গেলে সেটা ফেসবুকে না দিলেও ফেসবুক আপনাকে ঐ এরিয়ার ফেসবুকে প্রমোশন করা সাইট গুলো দেখাবে। আপনার এই লোকেশন‌ তথ্য ফেসবুকের কাছে যাওয়ার পেছনে গুগলের ও হাত রয়েছে।এইযে গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউব এরা কিন্তু আলাদা আলাদা ভাবে নয় একই ভাবে কাজ করে এবং একই সঙ্গে নিজেদের অডিয়েন্স ঠিক করে এবং তার লিস্ট করে । সবার কাথাই যখন বলেছি তখন আর ইউটিউবও বাদ থাকবে কেন? তবে ইউটিউব অতটা ডেটা পাইরেসি করে না এটা মূলত আপনি কি ধরনের ভিডিও গুলো কোন কোন সময় দেখছেন তারই একটি লিস্ট তৈরি করে দিনের বিভিন্ন সময় ইউটিউব ভিডিও ফিড বিভিন্ন ভিডিও আপনাকে শো করে। ফলে পছন্দের একেরপর এক ভিডিও আসতে থাকায় আপনিও আর সহজে ইউটিউব থেকে বের হতে পারেন না। আর এরই মধ্যে ইউটিউব আপনাকে অ্যাড দেখিয়ে নিজের লাভটা বুঝে নিচ্ছে। আর আপনি সেই ফাঁদে পা দিয়ে নিজের সময় অপচয় করছেন। আজ শেষ করতে চলেছি আমি । তবে যেতে বলতে চাই সবকিছুরই একটা লিমিট থাকে । আর এই লিমিটের বাইরে কিছুই ভালো নয়। ফেসবুক , ইনস্টাগ্রাম , স্ন্যাপচ্যাট , টিকটক ও ইউটিউব এগুলো কে এমনভাবে ডিজাইন করা যে আপনি চাইলে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দিতে পারবেন এগুলোতে । সর্ট ভিডিও জনপ্রিয় হওয়ায় এখন সব প্লাটফর্মই এগুলো তৈরি করেছে এবং বিভিন্ন লোভনীয় অফার দিয়ে অডিয়েন্সকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে নিজেদের দিকে। আমি আপনাকে এসব থেকে পুরোপুরি সরে আসতে বলছি না । কিন্তু যতটুকু সময় দেওয়া উচিত ঠিক ততটাই দিন। শুধু মাত্র পরিচিতি লাভ করতে এমন কিছু করবেন না যাতে আপনার প্রাণনাশের সম্ভাবনা থাকে। এমনটা যাতে না হয় যার জন্য আপনাকে সারাজীবন আক্ষেপ করে কাটাতে হয়। মনে রাখবেন আইনস্টাইন, নিউটন, গ্যালিলিও, কোপার্নিকাস, পিথাগোরাস, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম, যীশু খ্রীষ্ট, বুদ্ধ এই মহান মনীষীদের কারো কোনো ফেসবুক পেজ ছিলো না, ইনস্টাগ্রাম আইডিও ছিলো না । যোগাযোগের জন্য ছিলো না সুব্যবস্থা । তারপরও শত শত হাজার হাজার বছর পরও তাদের কির্তির জন্য আমরা তাদের শ্রদ্ধাভরে মনে রেখেছি। সবারই কিছু না কিছু গুন থাকে তা কাজে লাগাতে শিখুন তবে তা যেন না হয় কোনো অসৎ পথের মাধ্যমে। আপনি আপনার প্রতিভা কাজে লাগান পরিচিতি, ব্র্যান্ড ভ্যালু, প্রেস মিডিয়া তারা নিজেরাই আপনার পেছনে দৌড়বে। মনে রাখবেন সফলতা এমনি এমনি আসে না । আসে নিজের প্রচেষ্টায়। বাধা দেওয়ার অনেকেই থাকবে । সমাজের কিছু লোক আপনাকে নিয়ে কুমন্তব্য করবে , উল্টো-পাল্টা বুদ্ধি দেবে । সেগুলো শুনেও না শোনার ভান করে থাকুন। আর সোশ্যাল মিডিয়ার আপনাকে ব্যস্ত রাখতে চাইবেন নিজেদের মধ্যে নিজেদের লাভের জন্য। নিজেকে ব্যবহারর পণ্য করবেন না এদের থেকে বাঁচতে হবে নিজে থেকে নিজের উদ্যোগে। লেগে পড়ুন আজ থেকেই । শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।

আজকের পৃথিবীতে বিভিন্ন ভাবে খাদ্য সংকট হচ্ছে এবং আমাদের ব্যবহৃত ধান, গম ইত্যাদির দাম বেড়ে যাচ্ছে। তাই এবার এগুলোর বিকল্প হিসেবে দেশে এসেছে ব্রেড ফ্রুট বা রুটি ফল গাছ। এর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের এই নিচের ব্লগটি পড়তে পারেন।

Source: Voice of Dhaka, jamuna news . Author: MD Amiyo Hasan Laskar. লেখক: মোঃ অমিয় হাসান লস্কর। Facebook link : https://www.facebook.com/profile.php?id=100081051165472&mibextid=ZbWKwL Like , comment and share our blog . Your like give me inspiration .

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started